বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান তরুণী ফারাহ বিল্লাহর শিল্পকর্মে ‘নারী বঞ্চনার’ গল্প

farah

মুক্তকথা  : ফারাহ বিল্লাহ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন আমেরিকান তরুণী। দক্ষিণ এশীয়-আমেরিকান মেয়েদের মতো গৎবাঁধা জীবন তার পছন্দ নয়। শিল্প ও সাহিত্যের প্রতি প্রবল অনুরাগের কারণেই দক্ষিণ এশীয়-আমেরিকান মেয়েদের মতো হননি বলে তিনি জানান।

কিন্তু বাঙালি সংস্কৃতির প্রতিও তার ভালবাসা রয়েছে। কেননা এই সংস্কৃতির মধ্যেই যে সে বড় হয়েছে এবং এই সংস্কৃতিই তাকে অনুপ্রাণিত করেছে তার সর্বশেষ শিল্পকর্ম নির্মাণ করতে।

তার সর্বশেষ এ শিল্পকর্মের শিরোনাম হচ্ছে ‘করিয়েন্ডার ক্যাটস্: বেঙ্গলি গালর্স ইন দ্য ওয়াইল্ড’। এটি একটি ফটো সিরিজ। এতে তুলে ধরা হয়েছে, দক্ষিণ এশীয় তরুণীদের বিপরীতধর্মী এবং পেশাদারী জীবন।

ফারাহ বিল্লাহ এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘যেসব মানুষ তার নিজের পরিচয় সঙ্কটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও প্রত্যাশাকে অগ্রাহ্য করে, কেবল তারাই আমার কাজের সঙ্গে তাদের নিজেদের সম্পর্কযুক্ত করতে সক্ষম হবে।  গত দুই বছর ধরে এটাই হচ্ছে আমার জীবন এবং ‘করিয়েন্ডার ক্যাটসের’ মাধ্যমে আমি আমার নিজের অনুভূতির সত্তাকে জাগানোর চেষ্টা করছি।’

করিয়েন্ডার ক্যাটসের মাধ্যমে বিল্লাহ তার নিজের পরিচয়ের সঙ্গে একজন নারী, একজন মুসলিম ও একজন বাঙ্গালির অভিজ্ঞতাকে মেলানোর চেষ্টা করেছে।

বিল্লাহ জানান,  তিনি শিল্পকর্মের মাধ্যমে নারীদের কাব্যগাথাকে তুলে ধরেছেন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সাক্রামেন্টোর বাংলাদেশি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে অত্যন্ত কঠোরতার সঙ্গেই বড় হয়েছেন।

‘বিভিন্ন শহরে বসবাসের কারণে প্রায়ই আমি আমার বন্ধুদের খবর নিতে পারি না। এক সপ্তাহান্তে আমি ও আমার বন্ধুদের প্রত্যেকেই একটি শহরের  ছিলাম এবং আমি এমন কিছু একটা করতে চাইলাম, যাতে বিষয়টি হাইলাইট করে- কেন (বন্ধুরা) তারা আমার কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং কেন আমি তাদের খোঁজ রাখি। তারা ছিল আশ্চর্যজনক সাফল্যের অবিশ্বাস্য সব নারী।’ বিল্লাহ বলেছিল।

ফটো সিরিজের বিষয়ের জন্য বিল্লাহ তার বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ছবি তুলেন। এখানে তুলে ধরা হয়েছে, বাংলাদেশি নারীদের প্রত্যাশাকে কিভাবে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে।

বিল্লাহ বলেন, ‘আমাদের এই চেষ্টা শক্তিশালী হচ্ছে। আমেরিকার স্বাধীন নারীরা ঔষধ তৈরির অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখছে। তারা ইঞ্জিনিয়ারিং, মনোবিজ্ঞানেও পারদর্শিতা দেখাচ্ছে। কিন্তু এখনো আমাদের ক্ষমতাকে দূরে রাখা হচ্ছে। যা আমরা প্রত্যাশা করি না।’

‘আমার এই শিল্পকর্মে নারীদের বিশেষ করে ‘দেশীয় সংস্কৃতির মধ্যে মেয়েলি পরিচয়ের ‘নেতিবাচকতা এবং নিপীড়নের’ উপর গুরুত্ত্ব দেয়া হয়েছে।’ বলছিলেন বিল্লাহ।

বিল্লাহ বলেন, ‘তরুণীরা অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার জন্য প্রত্যাশা করে। এজন্য তারা গায়ের রং সুন্দর রাখার চেষ্টা করে। একটি নির্দিষ্ট ক্যারিয়ার অন্বেষণ করে এবং সমাজে একটি নির্দিষ্ট ধরনের খ্যাতি বজায় রাখতে চেষ্টা করে। কার্যত এসকল প্রত্যাশাই একজন তরুণীর অনুভূতিকে হতাশাগ্রস্ত করে তুলে।’

‘আমার কাছে কখনো কখনো মনে হয়েছে, এটা কেবল আমি এবং আমার বন্ধুরাই ভেবে থাকি। কিন্তু আমি অনেক তরুণীদের কাছ থেকে চিঠি পেয়েছে। এতে তারা আমাকে বলেছে,  এটা আমাদেরও জীবন, আমরাও এভাবেই কামনা করে থাকি। এসব তরুণীদের কাছ থেকে পাওয়া চিঠি আমাকে খুবই আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল।’ বিল্লাহ বলেন।

যদিও বিল্লাহ তার শিল্প মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতি এবং সামাজিক নিয়মের সমালোচনা করেছেন। কিন্তু তবুও সে বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে তার ভালবাসার কথা  অকপটভাবে স্বীকার করেছেন।

‘আমি  বাংলাদেশি উৎসব এবং  বিজয় দিবস উদযাপন করে বড় হয়েছি এবং আমি খুবই গর্বিত একজন বাংলাদেশি হতে পেরে। কিন্তু প্রত্যাশার এই পরস্পরবিরোধী বিষয়গুলো যা আমরা আমেরিকান ও বাঙ্গালি উভয়ই প্রত্যাশা করছি, সত্যিই বলতে ধর্ম কিংবা সংস্কৃতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু আরো অধিক সামাজিকীকরণের মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় নারীরা আমেরিকান হতে চাচ্ছে।’ বিল্লাহ বলেন।

বিল্লাহ একজন লেখিকাও। চলতি বছরের শুরুর দিকে ‘Wrong Turns Lead Here’ নামে তার একটি গদ্য এবং কবিতা সংগ্রহ প্রকাশিত হয়েছে। এতে মানুষের জীবনের পছন্দগুলোর প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তিনি জেন্ডার বিষয়ে প্রবদ্ধ লেখার পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন।

বিল্লাহ বলেন, ‘বর্তমানে আমি কিছু চিত্রকর্ম নিয়ে কাজ

করছি। এছাড়াও আমি এখন দারুণভাবে কবিতার উপর আলোকপাত করছি। আমি আমার শিল্পকর্ম তৈরির কাজও অব্যাহত রাখব। কিন্তু এখন সময় ‘নারীর শক্তি বৃদ্ধির’ এবং আমার পরিবারের লোকদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক জোরদারের এবং এ জন্য এমন কিছু  করা যা নারীর পরিচয়কে তুলে ধরে।

এনবিসি নিউজ অবলম্বনে ভাষান্তর মো. রাহল আমীন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>