বৃথা গেল টাইগারদের শুরুটা

157898_1

মাত্র ১ রানে ইমরুলকে হারিয়ে ফেলার ধাক্কা কী দারুণভাবেই না সামলে দিয়েছিলেন তামিম-মুমিনুল। দুজনের ১৭০ রানের জুটিটায় ইংল্যান্ডকে লাগছিল অসহায়। কিন্তু কী যে হলো সেই বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অলআউট হলো ২২০ রানে। মাত্র ৪৯ রানে পড়ে গেল শেষ ৯ উইকেট।

বৃথা গেল টাইগারদের শুরুটা। বৃথা গেল তামিম-মুমিনুলের অসাধারণ জুটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেকোনো উইকেটেই এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জুটি। টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে একাদশ বৃহত্তম। দ্বিতীয় উইকেটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ। যেকোনো দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম।

বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার শেষ টেস্টের প্রথম দিনের খেলা বৃষ্টির কারণে আগেই সমাপ্ত ঘোষণা করেছেন আম্পায়াররা।

বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে সফরকারীরা ৩ উইকেট হারিয়ে ৫০ রান সংগ্রহ করেছে। জো রুট ১৫ এবং মঈন আলী ২ রানে অপরাজিত আছেন। শনিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হবে।

ইংলিশদের ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। বেন ডাকেটকে ব্যক্তিগত ৭ রানে প্যাভিলিয়নে পাঠান তিনি। এরপর ব্যক্তিগত ১৪ রানে মিরাজের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন অ্যালিস্টার কুক।

গ্যারি ব্যালেন্সকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন মিরাজ। ব্যালেন্স ৯ রান করে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন। এরপরই বৃষ্টি শুরু হয়। দিনের খেলা শেষ হতে প্রায় ১৫ ওভার বাকি ছিল। তবে ব্যাপক বৃষ্টির কারণে আজ আর মাঠ খেলার উপযুক্ত হবে না ভেবেই খেলা শেষ করার ঘোষণা দেন আম্পায়াররা। এই ওভারগুলো পুষিয়ে নেয়ার জন্য শনিবার ৪০ মিনিট আগেই খেলা শুরু হবে।

এর আগে শুক্রবার সকালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ইংলিশদের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। প্রথম ইনিংসে ২২০ রানে অলআউট হয় টাইগাররা।

ইনিংসের শুরুতেই অবিবেচকের মত খেলতে গিয়ে সাজঘরে ফিরে যান ইমরুল কায়েস। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ক্রিস ওকসের বলে পয়েন্টে বেন ডাকেটের হাতে ক্যাচ দেন দলীয় ও ব্যক্তিগত এক রানে।

১৭০ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামলে দলকে এগিয়ে নেন তামিম ইকবাল ও মুমিনুল হক। তামিম ক্যারিয়ারের অষ্টম শতক তুলে মঈন আলীর বলে এলবিডব্লিউ হন। আর তার বলেই ৬৬ রান করে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন মুমিনুল হক। এরপর দলীয় ১৯৬ রানে মাহমুদল্লাহ রিয়াদকে কুকের ক্যাচ বানিয়ে বেন স্টোকস ইংল্যান্ডকে খেলায় ফেরান।

মাহমুদুল্লাহর বিদায়ের পর অধিনায়ক মুশফিকের ওপর ভরসা রাখতে চেয়েছিল দল। তবে মঈন আল তাকেও সাজঘরে ফেরান। ৪ রান করেন মুশফিক।

অধিনায়কের বিদায়ের পর মাঠে নামেন গত ম্যাচের ট্র্যাজিক হিরো সাব্বির রহমান। সর্বশেষ ম্যাচের মতো তিনি জ্বলে উঠবেন এবং সাকিবের সঙ্গে মিলে বড় পার্টনারশীপ গড়বেন এমনটাই ভাবছিলেন সবাই। তবে তিনিও হতাশ করে স্টোকসের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে শূন্য রানেই ফেরেন প্যাভিলিয়নে।

আর সাকিবও ব্যক্তিগত ১০ রান করে ওকসের বলে সাজঘরে ফেরেন। এরপর কামরুল ইসলাম রাব্বী ০ রান করেন।

মঈন আলী ৫২ রান দিয়ে ৫টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়াও ওকস ৩টি ও স্টোকস ২টি উইকেট লাভ করেন।

Comments are closed.